Thursday, July 2, 2009

কম্প্যুটার বিষয়ক কিছু মজার তথ্য !

অন্তর্জালে ঘুরতে ঘুরতে কিছু খুবই মজার তথ্য চোখে পড়ল কম্পিউটার বিষয়ক। প্রত্যেকটি তথ্যই সত্য। সেগুলো নিয়েই আজকের এই লেখা-

১| মাইক্রোসফ্‌ট উইন্ডোজ টিউটোরিয়ালের আরেকটি নাম হল "ক্র্যাশ কোর্স" ।

২| বিল গেটসের বাসার ডিজাইন করা হয়েছিল একটি মেকিনটোশ কম্পিউটার দিয়ে।

৩| ধারণা করা হচ্ছে ২০১২ সাল নাগাদ ১৭ বিলিয়ন ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে।

৪| অন্তর্জালে প্রতিমাসে এক মিলিয়নেরও বেশি ডোমেইন রেজিস্টার করা হয়ে থাকে।

৫| ই-মেইলের প্রচলন হয়েছিল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবেরও(WWW) আগে।

৬| আশির দশকে কোনও আইবিএম নির্মিত কম্পিউটারকে একশতভাগ কম্পাটিবল ধরা হতোনা যদি না সে কম্পিউটারে মাইক্রোসফ্‌ট ফ্লাইট সিমুলেটর চালানো যেত।

৭| মাই স্পেস ওয়েবসাইটের হিসাবমতে তাদের ১১০ মিলিয়ন নিবন্ধনকৃত ব্যবহারকারী রয়েছে। এটাকে একটি দেশ হিসেবে ধরা গেলে জনসংখ্যার দিক দিয়ে দশম বৃহত্তম রাষ্ট্র হত, মেক্সিকোর পরেই।

৮| গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি আট জোড়া বিবাহিত জুটির মধ্যে এক জোড়ার পরিচয় হয়েছে অন্তর্জালে।

৯| কম্পিউটারের সাথে ব্যবহার করার জন্য মাউস প্রথমে আবিষ্কার করেন ডাগ এনগেলবার্ট নামের একজন ভদ্রলোক ১৯৬৪ সালে এবং সেটি বানানো হয়েছিল কাঠ ব্যবহার করে।

১০| গড় কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা মিনিটে সাতবার চোখের পাতা ফেলেন মাত্র যা গড় স্বাভাবিক মানুষের মিনিটে চোখের পাতা ফেলার সংখ্যার (বিশ বার) চেয়ে অনেক কম।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট।

----------------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Friday, June 5, 2009

নামহীন হাবিজাবি- ৫

(১)
আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা
মন বসেনা ঘরের কোনে,
ইচ্ছে করে ভাসাই ভেলা
নদীর জলে গহীন বনে।

(২)
প্রকৃতির নির্মম রূক্ষতাকে
উপেক্ষা করে ভেসে যেতে চাই;
অজানা কোনোও দুর্গমতাকে
আপন করে বন্ধু হতে চাই।

(৩)
ছেলেবেলার মধুর সময়
হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা
স্বপ্নে আসে, স্মৃতি জাগায়
কখনো কাঁদায়, কখনো হাসায়।

--------------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Saturday, April 25, 2009

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রেলিয় নারীদের ভূমিকা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয় নারীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। সেসময়ে নারীদের সাপ্তাহিক বেতন পুরুষদের চেয়ে অনেক কম ছিল; এটাকে নারীকর্মীদের সংখ্যা বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কমে যাবার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসময়ে বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয় নারীরা গৃহকর্ত্রী হিসেবেই কর্মরত ছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে সংগ্রহকৃত পাঁচ লক্ষেরও বেশি তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়। এসব খালি পদ যেখানে নারীকর্মীদের দিয়ে পূরণ করা সম্ভব ছিল, সেটি না করে অস্ট্রেলিয় সরকার নির্বিকার দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর থেকে বাড়ির বাইরে কাজ করতে আগ্রহী নারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। ১৯১৪ সালে যেখানে মোট জাতীয় কর্মশক্তির মাত্র শতকরা ২৪ ভাগ ছিল নারী সেখানে ১৯১৮ সালে এসে কর্মশক্তিতে নারীদের ভূমিকে বেড়ে দাঁড়ায় শতকরা ৩৭ ভাগ। তবে সংখ্যায় আগের চেয়ে বেশি নারীরা অংশগ্রহণ করলেও তাদের বাঁধা কিছু কাজের গণ্ডি থেকে কিন্তু তারা বেড়িয়ে আসতে পারেননি। তৎকালীন সময়ে মেয়েরা শুধুমাত্র পোষাকশিল্প, পাদুকাশিল্প, খাবার এবং মুদ্রণশিল্পের সাথেই কর্মরত ছিল। কর্মীদের ইউনিয়নগুলো এসময় নারীদের কে আরো বিপুল পরিমাণে এবং অন্যান্য শিল্পে যোগদান করতে বাঁধা প্রদান করছিল। তাদের ভয় ছিল যে আরো অধিক পরিমাণে নারীরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করলে বেতনভাতা কমে যাবে তুলনামূলক হারে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিপুল সংখ্যক নারীরা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে। যেসব পদের জন্য তারা আবেদন জানিয়েছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- রাঁধুনি, স্ট্রেচার বহনকারী, গাড়ির চালক, অনুবাদক ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে তৎকালীন অস্ট্রেলিয় সরকার নারীদের এসব আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেয়। তবে নারীদের বিভিন্ন সংগঠন যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এসব সংগঠনের মধ্যে ছিল- অস্ট্রেলিয়ান ওমেন'স ন্যাশনাল লীগ, দ্যা অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস, দ্যা কান্ট্রি ওমেন'স এসোসিয়েশন, দ্যা ভলান্টারি এইড ডিটাচমেন্ট, দ্যা অস্ট্রেলিয়ায়ন ওমেন'স সার্ভিস কর্পোরেশন, এবং দ্যা ওমেন'স পিস আর্মি এবং ওমেন'স ক্রিশ্চিয়ান টেম্পেরেন্স ইউনিয়ন। কিছু কিছু নারীরা এসময়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তরুণদের উৎসাহিত করা, অস্ট্রেলিয়ান আর্মিতে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা, বিদেশী শত্রুদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণের কাজ করতো।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

-------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Monday, April 20, 2009

নামহীন হাবিজাবি- ৪

আমার ঘরের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ব্যাপারটা মনেহয় ঘরের একমাত্র জানালাটি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সম্ভবত আকাশ। সাথে আরো গাছ-গাছালি, লতাপাতা, পেছনের উঠোনের ফুল ইত্যাদি ইত্যাদি। কয়েক ঘন্টা আগেও বৃষ্টি হচ্ছিল বাইরে। আকাশের অবস্থা দেখে কিছুটা বিরক্তই লাগছিল। এখানে আবার বৃষ্টি হলেই ঠান্ডা পরে তাই বিরক্তিটা একদম মাথায় রক্ত চড়িয়ে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি থেমে আকাশ একদম পরিষ্কার হয়ে গেল। সাদা তুলোর মতন মেঘের দিকে তাকিয়ে বেশ ভাল লাগছিল। সন্ধ্যে হবার ঠিক আগে মনে হচ্ছিল যেন সাদা ক্যানভাসের মধ্যে কেউ হালকা লাল রঙ চড়িয়ে দিয়েছে, বিক্ষিপ্তভাবে এখানে সেখানে।

অলস দিন কাটাচ্ছি আজকে। কত কিছু করার আছে কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারছিনা। গতকাল আমার এক বন্ধুর জন্মদিন ছিল। ওকে শুভেচ্ছা জানানো হয়নি। হয়তোবা কষ্টই পেয়েছে সে; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে জানানো উচিত ছিল। নিজের উপর বিরক্ত লাগছে ব্যাপারটা চিন্তা করলে। গতকাল ওকে শুভেচ্ছা জানালেই পারতাম। এমন নয় যে ভুলেই গিয়েছিলাম। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও মনে ছিল। যদিও সারাদিন বেশ ব্যস্ত ছিলাম কাজে তবুও শত ব্যস্ততার এক ফাঁকে হয়তো শুভেচ্ছা জানাতে পারতাম।মাঝেমধ্যে এমনসব আজব কাজ করে বসি পরে নিজেই বুঝতে পারিনা কেন করেছি। ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই। তবে শুভেচ্ছা জানাই আর নাইবা জানাই ওর জন্য সবসময় শুভকামনা তো অবশ্যই কামনা করি। যা কখনো পরিবর্তন হবার নয়।

আবহাওয়ার কথা বলছিলাম। শীতকালটা আমার কখনোই তেমন ভাল লাগেনা। আমি আবার কিছুটা শীতকাতুরে মানুষ। ঠান্ডা সহ্য করতে পারিনা। সামান্য শীতেও অনেক ঠান্ডা লাগে। বিস্তর জামাকাপড় পরে বাইরে বের হতে হয়। নানান ঝামেলা। শীতকাল ছাড়া বর্ষাকালেও আমার ঘোর আপত্তি। দিনভর বৃষ্টির অত্যাচার দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে যাই। বাকি ঋতুগুলো নিয়ে আমার সমস্যা নাই। বাকি সব ঋতুই আমার পছন্দের।

Monday, March 30, 2009

নাক ডাকা যখন সমস্যা !

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কি আপনার বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে ? এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি পাঁচ জোড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তঃত একজোড়া দম্পতি নাক ডাকার সমস্যার কারণে রাত্রে বেলায় আলাদাভাবে ঘুমায়; শুধুমাত্র শান্তিতে ঘুমিয়ে রাতটা কাটানোর জন্য।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক জরিপ চালানো হয় ১০০০ জন বিবাহিত নারী এবং পুরুষের উপর। এর ফলাফলে দেখা যায় শোবার ঘরে স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পেছনে কতগুলো অতি পরিচিত কারণ রয়েছে-

>> ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা
>> বালিশ নিয়ে কাড়াকাড়ি
>> ঘুমের মধ্যে চলাফেরা করা অথবা কথা বলা
>> ঘুমের মধ্যে হাত অথবা পা এদিক সেদিক ছোড়াছুড়ি করা (জরিপে দেখা যায় দশ শতাংশ পুরুষ/নারীর ঘুমের মধ্যে ব্যথা পাবার অভিজ্ঞতা আছে সঙ্গী/সঙ্গিনীর ঘুমের মধ্যে হাত/পা ছোড়াছুড়ি করার কারণে)

জরিপে আরো দেখা যায় উপরোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে শতকরা সাত জন পুরুষ/নারী বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে সঙ্গি/সঙ্গিনীর সাথে রাতে ঘুমানোর সমস্যার কারণে। নাক ডাকা থেকে সৃষ্ট শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সমস্যাগুলোকে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। সেগুলো হচ্ছে- ঘুমিয়ে ওঠার পরেও ক্লান্তিবোধ করা, বদমেজাজি স্বভাব, কম কথা বলার প্রবণতা এবং সঙ্গি/সঙ্গিনীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের অবনতি। আলাদাভাবে ঘুমানোর কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বটা বেড়ে যায় এবং অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের অবনতিও পরিলক্ষিত হয়।

যেসব কারণে আমরা নাক ডাকি-
১| জন্মগত কারণে- জন্মগতভাবে কারো কারো গলার ভেতরের অংশ অন্যদের চেয়ে কিছুটা সরু থাকতে পারে যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। এছাড়াও টনসিলের আকার বড় থাকা এবং অন্যান্য শারীরিক জন্মগত সমস্যার কারণে কেউ নাক ডাকতে পারে ঘুমের মধ্যে।
২| বয়স- বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলা সরু হতে শুরু করে। মাঝ বয়েসে পৌঁছবার পর থেকেই অনেকের মধ্যে নাক ডাকার উপসর্গ দেখা দেয়।
৩| পুরুষ হবার কারণে- পুরুষদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা বেশি দেখা যায় নারীদের তুলনায়। এর কারণ কি কারো জানা আছে ? কারণটা হচ্ছে পুরুষদের গলার প্রস্থ মেয়েদের তুলনায় কম থাকে যার কারণে নাক ডাকার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে বেশি।
৪| এলার্জি, এজমা, ঠান্ডা লাগা, সাইনাসের সমস্যা- ঠান্ডা লাগা অথবা অন্যান্য কারণে নাক বন্ধ থাকার অভিজ্ঞতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। যখন নাক বন্ধ থাকে তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের যে সমস্যা হয় সেটার ব্যাপারেও নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই ঠান্ডা লাগলে অথবা উপরোক্ত কারণে কাউকে কাউকে নাক ডাকতে দেখা যেতে পারে ঘুমের মধ্যে।

নাক ডাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়-
# শরীরের ওজন কমানো অনেক সময় নাক ডাকা বন্ধ করতে সাহায্য করে। যাদের ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাস রয়েছে অল্প থেকে মাঝামাঝি পর্যায়ের এবং যদি তাদের শারীরিক ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়ে থাকে তবে ডাক্তারেরা সর্বপ্রথম এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন। শারীরিক ওজন বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলার পেছনের দিকের অংশে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে শুরু করে এবং এতে গলার ভেতরের প্রস্থ কমে যায়। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবে কাজ করে। ওজন কমানো সম্ভব হলে এসব অতিরিক্ত চর্বি থেকে রেহাই পাওযা যাবে এবং সেই সাথে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকাও বন্ধ হবে।
# মদ্যপান, কতিপয় ঔষধপত্র এবং কিছু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা গেলে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। এলকোহল এবং কিছু কিছু ঔষধ আমাদের গলার এবং জিহ্বার মাংসপেশীগুলোকে শিথিল করে দেয় যার কারণে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একই ভাবে ঘুমের বড়ি অথবা ট্র্যাঙ্কুলাইজার গোত্রের ঔষধগুলো ঘুমের জন্য সহায়ক হলেও এগুলো ব্যবহারের কারণেও নাক ডাকার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এসব এড়িয়ে চলাই ভাল। উচ্চ চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার অথবা সয়া দুধে তৈরি খাবার গলার ভেতরে মিউকাস তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে যার কারণে এসব খাদ্যদ্রব্যও নাক ডাকার পেছনে ভূমিকা রাকতেই পারে।
# ধূমপানের কারণে সৃষ্ট নানান প্রকারের জটিলতার সাথে আমাদের মোটামুটি পরিচিতি আছে। প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মাংসপেশীগুলো ঢিলে হয়ে পড়ে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার সৃষ্টি করে। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবেও কাজ করে। তাই ধূমপান বন্ধ করা হতে পারে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাবার একটি বড় উদ্যোগ।
# চিত হয়ে না ঘুমিয়ে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। জরিপে দেখা গেছে যে যাদের চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস আছে তাদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা অনেক কম। তাই ডাক্তারেরা বলে থাকেন পুরোপুরি নাক ডাকার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে পাশ ফিরে শোবার অভ্যাস করুন।
# উপরোক্ত প্রতিকার গুলো চেষ্টা করার পরেও কারো কারো ক্ষেত্রে নাক ডাকার সমস্যা সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

Sunday, March 15, 2009

অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের ইতিহাস

অনেকেই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের কথা শুনে থাকবেন। পাথরযুগীয় সভ্যতার জন্য পৃথিবীজোড়া যাদের পরিচিতি আছে। নৃতত্ববিদ্যায় অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা তাই একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এই আদিবাসীরা নিজেদেরকে “কুরি” বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। এরা স্বাস্থ্যবান এবং বাদামী-কালো চামড়ার অধিকারী। গড় উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির মতন (এক দশমিক ছয় আট মিটার) হয়ে থাকে। এদের চোখের রঙ সাধারণত গাঢ় বাদামি, চুলের রঙও তাই; তবে অনেকের চুলের রঙ লালচে অথবা সাদাটে-লালচে হতেও পারে। এদের ভ্রুজোড়া মোটা, চোয়াল বড় আর চুলগুলো কোকড়া হয়ে থাকে।

নৃবিজ্ঞানীদের মতে অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের জাতিগতভাবে আলাদা করা বেশ দুষ্কর। কিছু নৃবিজ্ঞানীরা এদেরকে ‘অস্ট্রালয়েড জাতি’ বলে থাকেন। এদের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে এশিয়ান এবং পলিনেশিয়ানদের মিল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় যে পঞ্চাশ হাজার বছর আগে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে এসব আদিবাসীরা বসতি স্থাপন করে।

ঐতিহ্যগতভাবে অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা শিকারী। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার তারা শিকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতো নতুবা অন্য কোনও উৎস থেকে আহরণ করতো। চাষাবাদে এদের কোনই অভিজ্ঞতা ছিলনা। পশু শিকারের কাজে এরা নানারকম অস্ত্র ব্যবহার করত যাদের মধ্যে বর্শা এবং বুমেরাং-এর নাম উল্লেখযোগ্য। গৃহপালিত পশু হিসেবে এদেরকে শুধুমাত্র ‘ডিংগো’ পালন করতে দেখা যায়। ‘ডিংগো’ হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির কুকুর যা শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়াতেই পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের মধ্যে প্রায় পাঁচশত বিভিন্ন উপজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের প্রত্যেকের ভাষায় ভিন্নতা আছে। এসব আদিবাসীরা শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের অলংকার পরিধান করে থাকত। তবে এসব অলংকার তৈরিতে তারা কোন ধরনের ধাতু ব্যবহার করতো সেই উত্তর আজো মেলেনি নৃবিজ্ঞানীদের কাছে। কিছু কিছু উপজাতি শীত নিবারনের জন্য ক্যাঙ্গারুর চামড়া ব্যবহার করত। অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের বিবাহপ্রথা, সামাজিকপ্রথা, ধর্মানুভূতি এবং ধর্মীয় আচার-আচরণ -এগুলো বেশ উন্নতমানের ছিল।

১৭৮৮ সালে ইউরোপিয়ানরা এসে অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। সে সময় থেকে শুরু করে ১৯০০ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের সংখ্যা ৫০০,০০০ থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে মাত্র ৫০,০০০ -এ এসে দাঁড়ায়। যার পেছনে প্রধানভাবে দায়ী করা হয় ইউরোপ থেকে নিয়ে আসা নানান অসুখ-বিসুখকে। এসব অসুখ প্রতিরোধের কোনও ব্যবস্থাই আদিবাসীদের কাছে ছিলনা। এছাড়াও ইউরোপিয়ানরা অনেক আদিবাসীদের হত্যা করে যেটিকে এদের সংখ্যা কমে যাবার আরেকটি কারণ হিসেবে দায়ী করা যায়। এখনো অনেক আদিবাসী তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ আদিবাসীরাই শহুরে এলাকায় এসে বসত গড়েছে, অথবা কৃষিকাজে মনোযোগী হয়েছে।

অনেক বছর ধরে অস্ট্রেলিয় সরকার আদিবাসীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ১৯৩০ সালে আদিবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে সকল পর্যায়ে তাদের সমঅধিকারের দাবিতে। প্রায় দশ বছর পর আদিবাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সমঅধিকার অর্জন করতে সমর্থ হয়। ১৯৬৭ সালে আদিবাসীরা তাদের ভোটাধিকার অর্জন করে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার কোনও নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার ছিলনা। অস্ট্রেলিয়ার অনেক এলাকায় ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু করে আজো আদিবাসীরা সরকারের কাছে তাদের পৈত্রিক জায়গাজমি ফিরিয়ে দেবার আবেদন করে আসছে। কিছু কিছু জায়গাজমি তাদেরকে ফেরত দেওয়া হলেও অধিকাংশ জমিই সরকারের দখলে রয়ে গেছে। যেগুলোর মালিক চার লক্ষ দশ হাজারের মতন অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

---------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Friday, March 6, 2009

৫০০০ বছর আগের ওৎজি যোদ্ধা

পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরানো এক ওৎজি যোদ্ধার ছবি দেখাবো আজ আপনাদের। সম্প্রতি এই যোদ্ধার ছবি প্রথমবারের মতন অন্তর্জালে প্রকাশ করা হয়। ৫৩০০ বছর ধরে এই অতি প্রাচীন যোদ্ধা আলপাইন পর্বতের হিমবাহে আটকা পড়েছিল। পাথর যুগের এই যোদ্ধাকে ১৯৯১ সালে ইটালিয় এক পর্বতারোহীদল আবিষ্কার করে ওৎজ উপত্যকা থেকে যা ইটালি এবং অস্ট্রিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত। এতদিন পর্যন্ত এই প্রাচীন যোদ্ধার দেখার একমাত্র উপায় ছিল ইটালির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত টাইরল জাদুঘরে গিয়ে দেখে আসা। অন্তর্জালে প্রকাশ করার পর অনেকেই দূর থেকে দেখার সাধ মেটাতে পারবেন।









৫৩০০ বছরের পুরোনো ওৎজি যোদ্ধা









আবিষ্কৃত হয় ১৯৯১ সালে









ওৎজি যোদ্ধার পা, ধারণা করা হয় তার উপর অতর্কিতে আক্রমণের ফলে মৃত্যু ঘটে









যোদ্ধার মাথার পেছনে তীর লেগে মৃত্যু হয় , ছবিতে মাথার পেছনের অংশ দেখা যাচ্ছে









মাথার পার্শ্বচিত্র, যেখানে দেখতে পারবেন যোদ্ধার কান এখনো অনেক ভাল অবস্থায় আছে









পেলভিস এবং হাড় দেখে মনে হচ্ছে কাঠের তৈরি যেন









ওৎজি যোদ্ধার বাম হাত দেখতে পাচ্ছেন


ছবি এবং তথ্যসূত্রঃ নাইনএমেসেন ডট কম ডট এইউ

-------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।