Monday, March 30, 2009

নাক ডাকা যখন সমস্যা !

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কি আপনার বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে ? এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি পাঁচ জোড়া স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অন্তঃত একজোড়া দম্পতি নাক ডাকার সমস্যার কারণে রাত্রে বেলায় আলাদাভাবে ঘুমায়; শুধুমাত্র শান্তিতে ঘুমিয়ে রাতটা কাটানোর জন্য।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক জরিপ চালানো হয় ১০০০ জন বিবাহিত নারী এবং পুরুষের উপর। এর ফলাফলে দেখা যায় শোবার ঘরে স্বামী অথবা স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পেছনে কতগুলো অতি পরিচিত কারণ রয়েছে-

>> ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা
>> বালিশ নিয়ে কাড়াকাড়ি
>> ঘুমের মধ্যে চলাফেরা করা অথবা কথা বলা
>> ঘুমের মধ্যে হাত অথবা পা এদিক সেদিক ছোড়াছুড়ি করা (জরিপে দেখা যায় দশ শতাংশ পুরুষ/নারীর ঘুমের মধ্যে ব্যথা পাবার অভিজ্ঞতা আছে সঙ্গী/সঙ্গিনীর ঘুমের মধ্যে হাত/পা ছোড়াছুড়ি করার কারণে)

জরিপে আরো দেখা যায় উপরোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে শতকরা সাত জন পুরুষ/নারী বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে সঙ্গি/সঙ্গিনীর সাথে রাতে ঘুমানোর সমস্যার কারণে। নাক ডাকা থেকে সৃষ্ট শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সমস্যাগুলোকে বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। সেগুলো হচ্ছে- ঘুমিয়ে ওঠার পরেও ক্লান্তিবোধ করা, বদমেজাজি স্বভাব, কম কথা বলার প্রবণতা এবং সঙ্গি/সঙ্গিনীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের অবনতি। আলাদাভাবে ঘুমানোর কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্বটা বেড়ে যায় এবং অন্যান্য পারিবারিক সম্পর্কের অবনতিও পরিলক্ষিত হয়।

যেসব কারণে আমরা নাক ডাকি-
১| জন্মগত কারণে- জন্মগতভাবে কারো কারো গলার ভেতরের অংশ অন্যদের চেয়ে কিছুটা সরু থাকতে পারে যা নাক ডাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। এছাড়াও টনসিলের আকার বড় থাকা এবং অন্যান্য শারীরিক জন্মগত সমস্যার কারণে কেউ নাক ডাকতে পারে ঘুমের মধ্যে।
২| বয়স- বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলা সরু হতে শুরু করে। মাঝ বয়েসে পৌঁছবার পর থেকেই অনেকের মধ্যে নাক ডাকার উপসর্গ দেখা দেয়।
৩| পুরুষ হবার কারণে- পুরুষদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা বেশি দেখা যায় নারীদের তুলনায়। এর কারণ কি কারো জানা আছে ? কারণটা হচ্ছে পুরুষদের গলার প্রস্থ মেয়েদের তুলনায় কম থাকে যার কারণে নাক ডাকার প্রবণতা পুরুষদের মধ্যে বেশি।
৪| এলার্জি, এজমা, ঠান্ডা লাগা, সাইনাসের সমস্যা- ঠান্ডা লাগা অথবা অন্যান্য কারণে নাক বন্ধ থাকার অভিজ্ঞতার সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। যখন নাক বন্ধ থাকে তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের যে সমস্যা হয় সেটার ব্যাপারেও নতুন করে বলার কিছু নেই। তাই ঠান্ডা লাগলে অথবা উপরোক্ত কারণে কাউকে কাউকে নাক ডাকতে দেখা যেতে পারে ঘুমের মধ্যে।

নাক ডাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়-
# শরীরের ওজন কমানো অনেক সময় নাক ডাকা বন্ধ করতে সাহায্য করে। যাদের ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার অভ্যাস রয়েছে অল্প থেকে মাঝামাঝি পর্যায়ের এবং যদি তাদের শারীরিক ওজন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়ে থাকে তবে ডাক্তারেরা সর্বপ্রথম এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন। শারীরিক ওজন বাড়ার সাথে সাথে আমাদের গলার পেছনের দিকের অংশে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে শুরু করে এবং এতে গলার ভেতরের প্রস্থ কমে যায়। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবে কাজ করে। ওজন কমানো সম্ভব হলে এসব অতিরিক্ত চর্বি থেকে রেহাই পাওযা যাবে এবং সেই সাথে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকাও বন্ধ হবে।
# মদ্যপান, কতিপয় ঔষধপত্র এবং কিছু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা গেলে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। এলকোহল এবং কিছু কিছু ঔষধ আমাদের গলার এবং জিহ্বার মাংসপেশীগুলোকে শিথিল করে দেয় যার কারণে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একই ভাবে ঘুমের বড়ি অথবা ট্র্যাঙ্কুলাইজার গোত্রের ঔষধগুলো ঘুমের জন্য সহায়ক হলেও এগুলো ব্যবহারের কারণেও নাক ডাকার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব এসব এড়িয়ে চলাই ভাল। উচ্চ চর্বিযুক্ত দুধের তৈরি খাবার অথবা সয়া দুধে তৈরি খাবার গলার ভেতরে মিউকাস তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে যার কারণে এসব খাদ্যদ্রব্যও নাক ডাকার পেছনে ভূমিকা রাকতেই পারে।
# ধূমপানের কারণে সৃষ্ট নানান প্রকারের জটিলতার সাথে আমাদের মোটামুটি পরিচিতি আছে। প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মাংসপেশীগুলো ঢিলে হয়ে পড়ে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যার সৃষ্টি করে। যা ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার কারণ হিসেবেও কাজ করে। তাই ধূমপান বন্ধ করা হতে পারে নাক ডাকা থেকে রেহাই পাবার একটি বড় উদ্যোগ।
# চিত হয়ে না ঘুমিয়ে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। জরিপে দেখা গেছে যে যাদের চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস আছে তাদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা অনেক কম। তাই ডাক্তারেরা বলে থাকেন পুরোপুরি নাক ডাকার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে পাশ ফিরে শোবার অভ্যাস করুন।
# উপরোক্ত প্রতিকার গুলো চেষ্টা করার পরেও কারো কারো ক্ষেত্রে নাক ডাকার সমস্যা সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

Sunday, March 15, 2009

অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের ইতিহাস

অনেকেই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের কথা শুনে থাকবেন। পাথরযুগীয় সভ্যতার জন্য পৃথিবীজোড়া যাদের পরিচিতি আছে। নৃতত্ববিদ্যায় অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা তাই একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এই আদিবাসীরা নিজেদেরকে “কুরি” বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। এরা স্বাস্থ্যবান এবং বাদামী-কালো চামড়ার অধিকারী। গড় উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চির মতন (এক দশমিক ছয় আট মিটার) হয়ে থাকে। এদের চোখের রঙ সাধারণত গাঢ় বাদামি, চুলের রঙও তাই; তবে অনেকের চুলের রঙ লালচে অথবা সাদাটে-লালচে হতেও পারে। এদের ভ্রুজোড়া মোটা, চোয়াল বড় আর চুলগুলো কোকড়া হয়ে থাকে।

নৃবিজ্ঞানীদের মতে অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের জাতিগতভাবে আলাদা করা বেশ দুষ্কর। কিছু নৃবিজ্ঞানীরা এদেরকে ‘অস্ট্রালয়েড জাতি’ বলে থাকেন। এদের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের সাথে এশিয়ান এবং পলিনেশিয়ানদের মিল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় যে পঞ্চাশ হাজার বছর আগে এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসে এসব আদিবাসীরা বসতি স্থাপন করে।

ঐতিহ্যগতভাবে অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা শিকারী। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার তারা শিকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতো নতুবা অন্য কোনও উৎস থেকে আহরণ করতো। চাষাবাদে এদের কোনই অভিজ্ঞতা ছিলনা। পশু শিকারের কাজে এরা নানারকম অস্ত্র ব্যবহার করত যাদের মধ্যে বর্শা এবং বুমেরাং-এর নাম উল্লেখযোগ্য। গৃহপালিত পশু হিসেবে এদেরকে শুধুমাত্র ‘ডিংগো’ পালন করতে দেখা যায়। ‘ডিংগো’ হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির কুকুর যা শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়াতেই পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের মধ্যে প্রায় পাঁচশত বিভিন্ন উপজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের প্রত্যেকের ভাষায় ভিন্নতা আছে। এসব আদিবাসীরা শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের অলংকার পরিধান করে থাকত। তবে এসব অলংকার তৈরিতে তারা কোন ধরনের ধাতু ব্যবহার করতো সেই উত্তর আজো মেলেনি নৃবিজ্ঞানীদের কাছে। কিছু কিছু উপজাতি শীত নিবারনের জন্য ক্যাঙ্গারুর চামড়া ব্যবহার করত। অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের বিবাহপ্রথা, সামাজিকপ্রথা, ধর্মানুভূতি এবং ধর্মীয় আচার-আচরণ -এগুলো বেশ উন্নতমানের ছিল।

১৭৮৮ সালে ইউরোপিয়ানরা এসে অস্ট্রেলিয়ায় বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। সে সময় থেকে শুরু করে ১৯০০ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের সংখ্যা ৫০০,০০০ থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে মাত্র ৫০,০০০ -এ এসে দাঁড়ায়। যার পেছনে প্রধানভাবে দায়ী করা হয় ইউরোপ থেকে নিয়ে আসা নানান অসুখ-বিসুখকে। এসব অসুখ প্রতিরোধের কোনও ব্যবস্থাই আদিবাসীদের কাছে ছিলনা। এছাড়াও ইউরোপিয়ানরা অনেক আদিবাসীদের হত্যা করে যেটিকে এদের সংখ্যা কমে যাবার আরেকটি কারণ হিসেবে দায়ী করা যায়। এখনো অনেক আদিবাসী তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ আদিবাসীরাই শহুরে এলাকায় এসে বসত গড়েছে, অথবা কৃষিকাজে মনোযোগী হয়েছে।

অনেক বছর ধরে অস্ট্রেলিয় সরকার আদিবাসীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ১৯৩০ সালে আদিবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে সকল পর্যায়ে তাদের সমঅধিকারের দাবিতে। প্রায় দশ বছর পর আদিবাসীরা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সমঅধিকার অর্জন করতে সমর্থ হয়। ১৯৬৭ সালে আদিবাসীরা তাদের ভোটাধিকার অর্জন করে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার কোনও নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার ছিলনা। অস্ট্রেলিয়ার অনেক এলাকায় ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু করে আজো আদিবাসীরা সরকারের কাছে তাদের পৈত্রিক জায়গাজমি ফিরিয়ে দেবার আবেদন করে আসছে। কিছু কিছু জায়গাজমি তাদেরকে ফেরত দেওয়া হলেও অধিকাংশ জমিই সরকারের দখলে রয়ে গেছে। যেগুলোর মালিক চার লক্ষ দশ হাজারের মতন অস্ট্রেলিয় আদিবাসীরা।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

---------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Friday, March 6, 2009

৫০০০ বছর আগের ওৎজি যোদ্ধা

পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরানো এক ওৎজি যোদ্ধার ছবি দেখাবো আজ আপনাদের। সম্প্রতি এই যোদ্ধার ছবি প্রথমবারের মতন অন্তর্জালে প্রকাশ করা হয়। ৫৩০০ বছর ধরে এই অতি প্রাচীন যোদ্ধা আলপাইন পর্বতের হিমবাহে আটকা পড়েছিল। পাথর যুগের এই যোদ্ধাকে ১৯৯১ সালে ইটালিয় এক পর্বতারোহীদল আবিষ্কার করে ওৎজ উপত্যকা থেকে যা ইটালি এবং অস্ট্রিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত। এতদিন পর্যন্ত এই প্রাচীন যোদ্ধার দেখার একমাত্র উপায় ছিল ইটালির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত টাইরল জাদুঘরে গিয়ে দেখে আসা। অন্তর্জালে প্রকাশ করার পর অনেকেই দূর থেকে দেখার সাধ মেটাতে পারবেন।









৫৩০০ বছরের পুরোনো ওৎজি যোদ্ধা









আবিষ্কৃত হয় ১৯৯১ সালে









ওৎজি যোদ্ধার পা, ধারণা করা হয় তার উপর অতর্কিতে আক্রমণের ফলে মৃত্যু ঘটে









যোদ্ধার মাথার পেছনে তীর লেগে মৃত্যু হয় , ছবিতে মাথার পেছনের অংশ দেখা যাচ্ছে









মাথার পার্শ্বচিত্র, যেখানে দেখতে পারবেন যোদ্ধার কান এখনো অনেক ভাল অবস্থায় আছে









পেলভিস এবং হাড় দেখে মনে হচ্ছে কাঠের তৈরি যেন









ওৎজি যোদ্ধার বাম হাত দেখতে পাচ্ছেন


ছবি এবং তথ্যসূত্রঃ নাইনএমেসেন ডট কম ডট এইউ

-------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Sunday, March 1, 2009

দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকর খাবার

সারাদিন কাজ আর কাজ, উদয়াস্ত খাটুনি, হাতে সময় নেই, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অগ্রাধিকার পায় না। কোনও কোন দিন অনেক বেলা ভরপেট খাওয়া হয় না, চটজলদি হালকা নাস্তা হয়। তবে নাস্তাটি স্বাভাবিক হলেই হলো। দু’বেলা আহারের মধ্যে যদি ক্ষুধা লাগে, তাহলে শরীরে পুষ্টি চাই, বোঝা গেলো। তাই ক্ষুধা মেটাতে কিছু একটা মুখে দিতে হয়। উল্টোপাল্টা নাস্তা খেলে কিন্তু সমস্যা। নাস্তায় যদি বেশি চর্বি ও শর্করা থাকে তাহলে রক্তে পরবর্তীতে কোলেস্টেরল বাড়ে, ওজন বাড়ে শরীরে, পরবর্তীতে হতে পারে নানা জটিলতা যেমন হৃদরোগ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া রক্তে এবং ডায়েবেটিস। সুসংবাদ হলো এই যে আজকাল স্বাস্থ্যকর খাবার সম্বন্ধে সচেতন হচ্ছে মানুষ সেজন্য অনেক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লোফ্যাট লোশর্করা খাবার তৈরি করছে যা স্বাদে কোনও ভিন্নতা নেই প্রকৃত খাবারের সাথে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকা যখন প্রস্তুত করবেন তখন কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে-

খাবেন প্রচুর ফল ও শাক-সব্জি…
এতে ক্যালেরি ও চর্বি কমে। এছাড়া এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন ও অন্যান্য এন্টিঅক্সিডেন্ট।
সম্পৃক্ত চর্বির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবেঃ যত কম সম্ভব, সম্পৃক্ত চর্বি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ এরকম চর্বি বেশি খেলে রক্তে বাড়ে কোলেস্টেরোল। তেলে ঘিয়ে ভাজা খাবার, প্রাণীজ চর্বিতে রয়েছে সম্পৃক্ত চর্বি। সে বিবেচনায় কচি মোরগ, মাছ এগুলো লাল গোস্ত(যেমন-গরু/ছাগলের মাংস) থেকে অনেক ভাল।

যে খাদ্য রান্না হচ্ছে সেদিকেও নজর রাখুন…
আংশিক হাইড্রোজিনেটেড উদ্ভিজ তৈল, যা মার্জারিন ও শর্টেনিং-এ ব্যবহৃত হয়, এতে এক ধরনের চর্বি থাকে একে বলে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড। এগুলো খাওয়া এড়ানো উচিত, কারণ এতে রক্তে বাড়ে কোলেস্টেরল। ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন কুকিস, চিপস ও ক্যান্ডিতেও এসব চর্বি পাওয়া যায়।
খাবারে যেসব তরল সস্ ছড়ানো হয়, সেগুলো কেমন হবে…
স্যালাড ড্রেসিং সস বা যেসব তরলে খাবার ডুবিয়ে খাওয়া হয়, সেগুলোতে যেন চর্বি থাকে খুব কম। সেই সস খাবারের উপর না ঢেলে পাশে রাখা ভালো। এতেও এসব কম খাওয়া হবে। দুদ্ধজাত প্রিয় খাদ্যের মধ্যে যেগুলোতে চর্বি কম সেগুলো খাওয়া ভাল। এতে চর্বি কম খাওয়া হবে। যেমন ফুলক্রিম দুধ বা দইয়ের বদলে লোফ্যাট দই বা ক্রিম ছাড়া দুধ ভাল।

শ্বেতসার হলো শক্তির গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত উৎস…

এগুলো শরীরে শর্করায় পরিণত হয়, তাই বেশি বেশি শ্বেতসার খেলে দেহে ওজন বাড়ে এবং রক্তে বাড়ে শর্করা, বিশেষ করে ডায়েবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে তো বটেই। এছাড়া আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে খুব বেশি শ্বেতসার খেলে হিতকরী কোলেস্টেরল এইচডিএল রক্তে হ্রাস পায়। গোটা শস্য যেমন গমের রুটি, জইচূর্ণ -এতে ময়দা কম, আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ কম। বাদাম, বীজ এসবও ভালো নাস্তা তবে এতে যেন লবন যেন না থাকে। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর অসম্পৃক্ত চর্বি, যা রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। বাদাম, আখরোট এতে রয়েছে ওমেগা-৩ উপাদান, যা ক্ষতিকর এলডিএল কমাতে পারে আবার হিতকরী এইচডিএল বাড়াতে পারে। লাউয়ের বীচি এবং সূর্যমুখীর বীজ এগুলোতে আছে ভিটামিন ই, বি ভিটামিন ও খনিজ। নিবন্ধটি পড়ে মনে হবে যে খাবারে এত বিকল্প আছে, তত বৈচিত্র্য রয়েছে খাবারের মধ্যে এগুলো চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি কি? কেন খাবো ফাস্টফুড, তেলেভাজা খাবার ? নোংরা ইটালিয়ান রেস্তোরাঁর পাশে নর্দমার উপর বসে কেন এসব ঝালমুড়ি, ফুচকা, তেলেভাজা মোগলাই খাওয়া? কেবলমাত্র হৃদপিন্ডের মতন কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কেন, দেহের পুরোটাই সুস্থ রাখা তো উচিত।

Tuesday, January 27, 2009

হুক্কা টানা কি সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ ?

আমাদের অনেকের মধ্যেই একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে হুক্কা টেনে ধূমপান করা সিগারেটের থেকে নিরাপদ; কারণ হুক্কার কার্যপ্রণালীতে যে পানির ব্যবহার করা হয় তা নাকি তামাকের বিষাক্ততা কমিয়ে দেয়। কিন্তু আসল ব্যপারটি মোটেই তা নয়। হুক্কায় ব্যবহৃত তামাক কখনোই কম বিষাক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে হুক্কা ব্যবহারকারীরা সিগারেট ব্যবহারকারীদের থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পরিমাণে ধোঁয়া টেনে নিচ্ছেন ফুসফুসে।

হুক্কা - যা নারঘিলে, শিশা এবং গজা নামেও কোন কোনও দেশে পরিচিত – প্রকৃতপক্ষে একটি পানির নল। কয়েকশত বছর ধরে মধ্যেপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হুক্কা ব্যবহৃত হয়ে আসছে ধূমপানের কাজে। সাম্প্রতিককালে কিশোর এবং তরুণদের মধ্যে হুক্কার জনপ্রিয়তা বাড়ছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে। হুক্কাপ্রীতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক এলাকায় হুক্কা ক্যাফে গড়ে উঠছে।

একটি হুক্কার সাজসজ্জাকে নিম্নোক্ত কয়েকটি অংশে বিভক্ত করা যেতে পারেঃ-
## একটি ভিত্তি যার কিছু অংশ পানি দ্বারা পূর্ণ থাকে
## একটি বাটি যার মধ্যে তামাক থাকে তাপ প্রয়োগের ব্যবস্থাসহ
## একটি নল যা বাটি ও ভিত্তির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, এই নলটি ভিত্তির ভেতরের পানির মধ্যে ডোবানো অবস্থায় থাকে।
## দ্বিতীয় আরেকটি নল প্রথম নলের মধ্যে বসানো থাকে যা পানির মধ্যে ডোবানো অবস্থায় থাকেনা, এই নলটি হুক্কার ধোঁয়া ভেতরে টেনে নেবার কাজ করে থাকে।

অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা কাজ করে যে হুক্কার মধ্যে ব্যবহৃত পানি তামাকের সকল বিষাক্ত উপাদানকে ছেঁকে ফেলে, যা সত্যি নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে একঘন্টা ধরে কোনও হুক্কা ব্যবহারকারী যে পরিমাণ ধোঁয়া টেনে নিচ্ছেন ভেতরে তা একজন সিগারেট ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত একটিমাত্র সিগারেট থেকে ১০০ থেকে ২০০ গুণ বেশি পরিমাণে ক্ষেত্রবিশেষে। হুক্কায় ব্যবহৃত তামাকের ধোঁয়া পানির মধ্যে দিয়ে চালনা করার পরেও এর মধ্যে উচ্চ পরিমাণে বিষাক্ত উপাদানগুলো বিদ্যমান থাকে। যাদের মধ্যে কার্বন মনোক্সাইড, কিছু ভারী লৌহ উপাদান এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে নিকোটিন থাকে ধোঁয়াতে যা ব্যবহারকারীর নেশার উদ্রেকের জন্য দায়ী।

হুক্কা সেবনের এই নতুন প্রচলনকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মারাত্মক ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। হুক্কা ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে ভুল ধারণা আছে তার অবসান ঘটাতে হবে। কারণ হুক্কার ব্যবহার সিগারেট ব্যবহারের মতই ক্ষতিকারক এবং ক্ষেত্রবিশেষে সিগারেটের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম।

Friday, January 2, 2009

কৃত্রিমতার বাস্তবিকতা

সততাকে যখন তোমরা
পদদলিত কর, দুমড়ে-মুচড়ে ফেল নগ্নপায়ে
রক্তমাংসের এ শরীর
ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে
পরাজিত হৃদয় থেকে
ফিনকি দিয়ে বেড়িয়ে আসতে চায়।

সংকল্পহীন হৃদয় আজ শক্তিহীন
ভূম্যবলুন্ঠিত হয়ে তাই
সোপর্দ করে তাদের কাছে;
পরিত্যাজ্য অতীতে পরিত্যক্ত আমি,
অবিশ্রান্ত উপস্থিতি ভবিষ্যতের
অস্তিত্বের জন্য হাহাকার করছে।

মিথ্যে অলঙ্করণগুলো দৃশ্যমান
দিবাগত রাতে তাই আর
ঘুম ভাঙ্গেনা আমার;
নড়বড়ে হয়ে যাওয়া নিজ সত্ত্বাকে
আঁকড়ে ধরতে চাইনা,
বলতে চাইনা-
"সবকিছু ঠিক আছে"।
--------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Saturday, December 13, 2008

চাঞ্চল্যকর রাহেলা হত্যাকাণ্ডঃ চার বছর পরেও যে মামলা অমিমাংসিতই রয়ে গেল

আজ থেকে চার বছরেরও কিছু বেশি সময় আগের ঘটনা। রাহেলা ধর্ষণ এবং হত্যা মামলার কথা বলছিলাম। যে নৃশংস ঘটনা আমাদের প্রচার মাধ্যমগুলোতেও তেমনভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি, আজো বিচারের আশায় আদালতে লটকে আছে।

রাহেলার পুরো নাম ছিল রাহেলা আক্তার লিমা। ২০০৪ সালে তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মশাররফ হলের পেছনে ঝোপ এলাকায় তিন মানুষ নামের কলঙ্ক গণধর্ষণ শেষে হত্যা করার চেষ্টা করে রাহেলার গলায় ছুড়ি চালিয়ে। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মুখে এসিড ঢেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তিনদিন পর রাহেলাকে উদ্ধার করা হয় ঝোপের মধ্যে থেকে, ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় মৃতপ্রায়। বাইশ বছর বয়সী অসম্ভব প্রাণচাঞ্চল্যের অধিকারিনী এই তরুণী সেযাত্রা বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা করা যায়নি। তেত্রিশদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাহেলা ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট।

এহেন ঘৃণ্য হত্যাকান্ডের আশু বিচারকার্য সম্পাদন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান সবার কাম্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রাহেলা হত্যা মামলার প্রতিটি পর্যায়েই দীর্ঘসূত্রিতা পরিলক্ষিত হয়। হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর প্রথমদিকে প্রচারমাধ্যমগুলোতে কিছুটা সাড়া জাগালেও এক সময় তা থেমে যায়। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইবুনাল-১ এ বিচারাধীন এ মামলা আইন শালিশ কেন্দ্রের সহযোগিতায় ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম শুনানীর জন্য উত্থাপিত হয়। তারপরই জানা যায় যে মামলা সংশ্লিষ্ট জরুরী নথিপত্র খোঁয়া গেছে। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামী বিদেশে পাড়ি জমায় এবং অন্যান্য আসামীরা সুকৌশলে জামিনে মুক্তি পেয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে রাহেলার মৃত্যুর পর তার কবরের জায়গাটুকুও স্বামী চান মিয়ার বাড়িতে হয়নি। রাহেলাকে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে দাফন করা হয়। রাহেলা মারা যাবার ছয় মাস পরেই চান মিয়া আবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়ে যায়, মামলাটি হয়তো মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেত যদি না কতিপয় নারী অধিকারকর্মী এবং বাংলা ব্লগাররা সোচ্চার হতেন। বিভিন্ন ব্লগ্লীয় প্লাটফর্মে মামলাটির গুরুত্ব নিয়ে লেখালেখি হতে থাকে, ধীরে ধীরে অনেকেই এর সাথে যোগ দেন। রাহেলার জন্য দ্রুত ন্যায় বিচারের ধ্বনি চারদিকে উচ্চারিত হতে থাকে। বাংলা ব্লগ, সংবাদপত্র, ফেসবুকগ্রুপ এবং আই-পিটিশন ইত্যাদির মাধ্যমে অনলাইনে একটা বেশ বড় প্রচারাভিযান সংঘটিত হতে থাকে। অফলাইনে এ বিষয়ে জনগণের সচেতনতা জাগ্রত করার জন্য প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং মানব-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মামলাটিকে সামনে এগিয়ে নিতে আদালতের উপরে চাপ প্রয়োগ করার জন্য বাংলা ব্লগারদের এই চলমান প্রচেষ্টা প্রচার মাধ্যমের নজর কাড়ে এবং ক্রমশ: প্রতিবেদন এবং টিভি রিপোর্ট প্রচার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত ২০০৮ এর জানুয়ারী মাসে মামলাটি পুনরায় চালু হয় এবং এপ্রিল মাসে হারিয়ে যাওয়া নথিপত্র আশ্চর্য্যজনকভাবে খুঁজে পাওয়া যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরবর্তীতে দাবী করেছেন যে নথিপত্র ‘সবসময় সেখানে ছিল'। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিচারের জন্য যুদ্ধ এখনও একটা দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রাম। ইতোমধ্যেই এই মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং মুখ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা অসহযোগিতা শুরু করছে। কিন্তু ব্লগাররা ছেড়ে দিচ্ছেন না। মানুষের স্মৃতিতে রাহেলাকে সজীব রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যেন অন্যায়কারীকে আইন ও বিচারের সম্মুখীন করা যায়; যদিও দেরী হয়ে গেছে, কিন্তু রাহেলা আখতার লিমাকে বঞ্চিত করা হয় নাই। সাম্প্রতিক সময়ে এক টিভি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের একজন সম্মানিত শিক্ষাবিদ ও লেখক প্রফেসর মুহাম্মদ জাফর ইকবাল রাহেলার ন্যায় বিচারের বিষয়টির বারবার উল্লেখ করেন।

এ বছরের এপ্রিল মাসে সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘চাঞ্চল্যকর মামলা মনিটরিং সেলে’ অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং দ্রুত বিচার আইনে সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। বিচারের জন্য বেঁধে দেয়া সময় ছিল অক্টোবর পর্যন্ত এবং বিশেষ প্রয়োজনে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত বাড়তি সময় প্রদান করা হয়। রাহেলার চিকিৎসক শহীদুল ইসলাম এবং তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির কারণে সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বাড়তে বাড়তে নভেম্বরের শেষ দিকে সকল সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শেষ হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে ৬ জানুয়ারি। এদিন মামলার আসামী সনাক্তকরণ হবে তিনশত বিয়াল্লিশ ধারায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মামলার প্রধান আসামী এখনো পলাতক এবং বাকিরা আজো জামিনে মুক্ত।

আমরাও চাই এই মামলার আশু নিষ্পত্তি। গত চার বছরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর গড়িমসির কারণে অনেক জল ঘোলা হয়েছে, রাহেলা হত্যা মামলা ন্যায় বিচারের আশায় এখনো আদালতে ধুঁকছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারকার্যের আশু সম্পাদনাই হোক নতুন বছরের ঊষালগ্নে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

---------------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।