Showing posts with label পদ্য. Show all posts
Showing posts with label পদ্য. Show all posts

Friday, January 2, 2009

কৃত্রিমতার বাস্তবিকতা

সততাকে যখন তোমরা
পদদলিত কর, দুমড়ে-মুচড়ে ফেল নগ্নপায়ে
রক্তমাংসের এ শরীর
ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠে
পরাজিত হৃদয় থেকে
ফিনকি দিয়ে বেড়িয়ে আসতে চায়।

সংকল্পহীন হৃদয় আজ শক্তিহীন
ভূম্যবলুন্ঠিত হয়ে তাই
সোপর্দ করে তাদের কাছে;
পরিত্যাজ্য অতীতে পরিত্যক্ত আমি,
অবিশ্রান্ত উপস্থিতি ভবিষ্যতের
অস্তিত্বের জন্য হাহাকার করছে।

মিথ্যে অলঙ্করণগুলো দৃশ্যমান
দিবাগত রাতে তাই আর
ঘুম ভাঙ্গেনা আমার;
নড়বড়ে হয়ে যাওয়া নিজ সত্ত্বাকে
আঁকড়ে ধরতে চাইনা,
বলতে চাইনা-
"সবকিছু ঠিক আছে"।
--------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Saturday, October 18, 2008

বিক্ষিপ্ত অনুরণন

পুষ্পাকীর্ণ এই সমাধিক্ষেত্র
নিদারুণ মর্মপীড়া জাগায়
অন্তর্নিহিত শক্তি থেকে
অশ্রুগুলো বিস্মৃত হতে চায়।

গতানুগতিক কাজের মাঝে
হৃদয়ানুভূতি প্রকাশের অপৌনঃপুনিকতা,
অনাবশ্যক বিবেচিত অপ্রকাশিত কথামালা,
আলো-আঁধারির খেলা,
অশ্রুভেজা পাপড়িগুলো,
দৈব সম্ভাবনার অপব্যবহার,
অকুতোভয় পদচারণ এবং স্নেহার্দ্র দৃষ্টি,
উচ্চপ্রশংসা ও আক্ষেপের রহস্যময়তায়
হারিয়ে যাওয়া অব্যক্ত ভালবাসা,
কিংবা না পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায়
শুধু একটি নাম অনুরণিত হচ্ছে, বিক্ষিপ্তভাবে।


-----------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Monday, September 29, 2008

ভাঙ্গা আয়নার প্রতিবিম্ব

ভাঙ্গা আয়নার প্রতিবিম্ব আজ মুখোমুখি
বিকৃত সেই প্রতিবিম্ব চেয়ে থাকে
আয়নার ভাঙ্গা টুকরোগুলো থেকে।
বিস্ময়াহত হয়ে খুঁজছি
মিথ্যে এই প্রতিবিম্বের উৎসকে;
হয়তোবা নিজেকে হারিয়েই ফেলেছি
চুরমার হয়ে যাওয়া আয়নার মাঝে।

পিটপিট করে তাকানো
শতশত চোখের মাঝে
অবিশ্বাসের ছায়া দেখতে পাই,
পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে
আয়নার অবশিষ্ট টুকরোগুলোর মতন।

রূপালী প্রলেপের পেছনে
লুকিয়ে থাকা গাঢ় বিষণ্নতা
বাঁকা হাসি হাসছে বিজয়ের উৎসবে।
মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্রতিবিম্ব
বন্দী করতে চাইছে আমাকে
ঐ ভাঙ্গা আয়নায় মাঝে।

Sunday, September 21, 2008

তোমায় পড়ে মনে

তোমায় মনে পড়ছে
সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়
পাখির অবিরাম কলরব,
রাস্তার কুকুরের চিৎকার
একটু পানির জন্য হাহাকার;
রিমঝিম নূপুরের নিক্কন
টুপটাপ বৃষ্টির গুঞ্জন
সাগরের প্রচণ্ড গর্জন
আষাঢ়ের প্রবল বর্ষণ;
ব্যস্ত শহরের কোলাহল
আশা-শঙ্কার দোলাচল;
ক্ষুধার্ত মানুষের চিৎকার
ধনীর অট্টালিকার মর্মর;
তবুও তোমায় পড়ে মনে
নিরন্তর, সারাবেলা।
------------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন,২০০৮।

Saturday, September 6, 2008

মায়াবী মুহূর্তগুলো

জ্যোৎস্নালোকিত রাতে
চমৎকার মুহূর্তগুলো আসে
যখন কোনও অপ্সরা
চুমু দিয়ে যায় কপোলে;

শুধু একটি চমৎকার মুহূর্তকেই
আঁকড়ে ধরে থাকি
যেন অন্যসব মুহূর্তগুলো আসেইনি।

বসন্তের বাতাসে ফুলের সৌ্রভ,
দীর্ঘস্থায়ী ভালবাসার পরশ,
সেকি আরো মায়াবী নয় ?

যেসব মুহূর্তগুলো
মায়াবী পরশ বুলিয়ে
নিভে আসা ভালবাসার
প্রদীপকে পুনরুদ্দীপ্ত করে,
তা যেন আমাদের
দৃঢ়প্রত্যয়ের শিক্ষা দেয়।

Sunday, August 24, 2008

এই আমি একাকী !

আমি একাকী
বড় বেশী একাকী;
উপেক্ষিত,
আহত,
দলাপাকানো কাগজের মত
ছুঁড়ে ফেলা এককোণে।

আমি একাকী
চারপাশে কেউ নেই
নিরাপত্তা দেবার মতন,
দেখার কেউ নেই
আমার যন্ত্রণা।

চিৎকার করে উঠি হঠাৎ
তবে তাতে কোনও আশা নেই,
আমি খুব বেশী একা
এবং তা কেউ জানেনা।

Sunday, August 10, 2008

অর্ধস্ফুট গোলাপের জন্য

প্রস্ফুটিত গোলাপ মনে করিয়ে দেয়
তোমার কথা
যার রঙ সবে দেখা দিয়েছে
মৃদুমন্দ বায়ুতে সুগন্ধির আভাস
যার সকল কিশলয় অর্ধফোটা।

আগামীর উৎকর্ষ তোমার পথে পথে
জ্বালাবে ভালবাসার দীপশিখা,
বিচরণ হবে তোমার ঐ মহাকাশে
সমুদ্রের প্রান্তে-প্রান্তরে
ভালবাসার স্রোতে ভেসে।

সাত রাজার গুপ্তধন খুঁজে বের করার মত
আবিষ্কার করছি তোমাকে
তোমার সৌন্দর্য অপরিমেয়
তুমি হে অর্ধস্ফুট গোলাপ কন্যা।


----------------------
১১ই আগস্ট, ২০০৮।

Saturday, August 2, 2008

নীহারকণায় লেখা শোকগাঁথা

কোনও এক স্নিগ্ধ সকালে
শীতল সূর্যোদয় লিখে চলেছে
আমাদের শোকগাঁথা নীহারকণায়,
হাজারো তুষারকণা হারিয়ে যায়
আলোর উৎসে।
প্রবল কোনও ঘূর্ণিপাকে
হারিয়ে যায় সবই,
যেন মৃত্যুচিন্তাও আমাদের ভাবিত করেনা।
অনবদ্য কবিতার মানে দাঁড়ায় এক স্তবকেই
যেমন সব সাদা কাগজই বলে এক কথা।

আঘাত পাওয়া অনুভূতিগুলো
পারলৌকিক বলেই যেন ক্ষণস্থায়ী,
তেমনি সংক্ষিপ্ত যেন কতগুলো হাড়ের
ধরে রাখা আমাদের নশ্বর দেহ।

বাগ্নীতা হারিয়ে যায়
প্রায়শ্চিত্তের দুঃশ্চিন্তায়,
মনে রাখা কঠিন তোমার হাতে রেখে হাত।
আজ চাই স্তব্ধ করে দেয়া কোনও স্পর্শ
ক্ষণস্থায়ী এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে।

-------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Thursday, July 17, 2008

সূর্যাস্তটাকে ধাওয়া করে যাই

সূর্যাস্তটাকে ধাওয়া করে চলেছি
সূর্যোদয়ের দেখা পাবো বলে
নিয়তিটাকে হন্যে হয়ে খুঁজছি
আশাটাকে ধার করতে পারবো বলে।

কল্পনাগুলো অদৃশ্য হয়ে
জবাবগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে
স্বপ্নেরা সত্য হবার মতই

আবারো সূর্যাস্তটাকে ধাওয়া করে চলি
নতুন প্রশ্নের জবাব পাবো বলে
আশাভরা হৃদয়কে ধাওয়া করে চলি
সত্যের দেখা পাবো বলে।
--------------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Saturday, July 12, 2008

নিয়তি ও স্বপ্নেরা

স্বপ্ন দেখি আমি অমুক হব
নাকি স্বপ্ন দেখাই আমার নিয়তি ?

স্বপ্ন দেখি আমি স্বাধীনভাবে বাঁচবো
স্বপ্ন দেখি শংকাহীনভাবে ভালবাসবো
স্বপ্ন দেখি ডানামেলা পাখি হব।

অদৃষ্টে কি লেখা শুধুই বেঁচে থাকা
নাকি স্বপ্ন দেখাই আমার অদৃষ্ট ?

আজ তাই ভয় হয় স্বপ্ন দেখতে
কারণ,
স্বপ্ন দেখাই যে আমার নিয়তি।

Thursday, July 10, 2008

কথার পাহাড় ও আমি

কথার পাহাড় যেন জমাট বাঁধছে ভেতরে,
আমি অসহায় !
কতশত কথা বলার ছিল,
আমি অসহায় !

আটকে আছে আমার এই নিথর দেহ
শত কথার পাহাড়ের নিচে
সত্যিই নিথর ?
নাকি আছে কিছু প্রাণের অবশেষ ?
আছে, আছে !!
নইলে কে বইবে কিছু অসহনীয় যন্ত্রণা ?
বলা হলোনা সেসব কিছুই
পারবোনা বলতে
কিছু যন্ত্রণাই তো, এর বেশিনা।
থাকুক।

Sunday, July 6, 2008

ছোট্ট তিনটি শব্দ

তোমার হাসি আমার প্রথম ভোর
স্পর্শ তোমার প্রথম শ্রাবণ ধারা
ছোট্টো কেবল তিনটি শব্দ দিয়ে
যায় কী বলো সবটা বলতে পারা?

সব হাসিতে সব খুশিতে তুমি
থাকছো পাশে, হাতের মাঝে হাত
কী যায় আসে আমার তবে, বলো?
আজ যদি হয় পৃথিবী বরবাদ?

কতো যে ভালো তোমায় বাসি আমি
আর কিছু কি আমার লাগে ভালো?
তুমি— আমার মনের সবটা জুড়ে
তোমায় ভালোবাসবো জনম ভরে।

Saturday, May 24, 2008

এলিজিঃ তোমার জন্য ...

হাসছি তো হাসছিই
নিজের রসিকতায় নিজেই
ভেতরটায় কে যেন কাঁদছে
নিরন্তর জানান দিয়ে যাচ্ছে
তার অশুভ উপস্থিতি।

বন্ধুরা মিলে মেতে আছি উল্লাসে
ভেতরে যে শুধুই হাহাকার
সাবধানে চেপে রাখি, তুমি কখনোই শুনতে পাবেনা তা।

হাসছি আমি যখন দেখছি তোমায়
তুমিও হেসে উঠছো আমার চোখে রেখে চোখ
কিন্তু তোমার সে দৃষ্টি নেই, দেখতে পাও না আমার অন্তর
কীভাবে যে রক্তাক্ত হয় প্রতিনিয়ত

তবুও হেসে চলেছি
তোমাকে বিদায় দিতে হাত নাড়ছি সোল্লাসে!
ভেতরে আহত হৃদয়ের আর্তচিৎকার
রক্তাক্ত হয়ে চলেছে, প্রতিনিয়ত।

---------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৮।

Thursday, May 22, 2008

যদি কোনদিন ...

যদি কোনদিন ঈশ্বর বলতেন আমায়
চেয়ে নাও, তোমার যা আছে চাইবার
আমি ঈশ্বরকে বলতাম
প্রতিটি সকাল যেন এমন হয়,
তোমার
নিঃশ্বাসের স্পর্শে যেন জেগে উঠি
যেন অনুভব করতে পারি
তোমার
ওষ্ঠের উষ্ণতা আমার অধরে
যেন তোমার
সান্নিধ্য বেষ্টন করে থাকে আমার অস্তিত্ব

আমার যে জানা হয়ে গেছে
পাবোনা কারো সাথে সেই অনুভূতি
যা পেয়েছি শুধুই তোমার সাথে।

Thursday, May 8, 2008

তাকে আমি কখনো দেখিনি....

ঘুমভাঙ্গা সকালের সূর্যোদয়ে তুমি আছো
যেন হেসে তুমি বলছো, "শুভ সকাল তোমাকে"।

সবুজ ঘাসের উপর জমে থাকা
ভোরের শিশির কণার চেয়েও দ্যুতিময়
তোমার হাসি যেন বলছে, "দিনটা ভাল কাটুক তোমার।"

কাঠফাটা রোদের ক্লান্ত দুপুরে
প্রত্যাশিত একটু ছায়ার চেয়েও
স্বস্তিকর তোমার হাতের স্পর্শ যেন
ভুলিয়ে দিচ্ছে সকল ক্লান্তি।

সমস্ত সুন্দরের মাঝে অনুভব করি তোমাকে
গত মুহূর্ত থেকেও আরো বেশি
দিনশেষে চাঁদের একফালি আলো হয়ে
যেন তুমি বলছো আমায়,
"শুভরাত্রি তোমায়, ঘুমিয়ে পড়ো এবার।
আমিতো আছিই তোমার পাশে, সবসময়।"

Monday, April 14, 2008

সাহচর্য

দু'চোখ বুজলে যেন
তোমার অবয়ব দেখি
তোমার চোখে যেন
সারা বিশ্ব দেখি,
তুমিই যে সমগ্র বিশ্ব আমার।

জানিনা কখন তুমি
এসেছো এতোটা কাছে
করেছো এতোটা আপন আমায়
এমন কোনো কালিতে লেখা হয়ে গেছে তোমার নাম
যা কখনোই মুছে যাবেনা
মুছে দেওয়া যাবেনা।

প্রতিটি মুহুর্তে যেন
অনুভব করছি তোমায়
সব দূরত্বই যেন নগণ্য আমাদের মাঝে
তুমি আছো আমার পাশে
নীরবে বলছো আমায়
পারবো সব বাধা ডিঙ্গাতে
কারণ, তুমি যে আছো আমার পাশে।


toxoid_toxaemia
15th April 2008
12.38am
---------------------------------------
প্রথম প্রকাশঃ রংগন(বৈশাখের দ্বিতীয় অন্তর্জাল পত্রিকা), ২০০৮।