Monday, September 14, 2009

নতুন আবিষ্কারঃ ঘরে বসেই জানা যাবে গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে ?

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা নিশ্চিত হতে আর পরীক্ষাগারে যেতে হবেনা। ঘরে বসে ছোট্ট একটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ কী। তাও আবার গর্ভধারণের মাত্র ১০ সপ্তাহের মধ্যেই। সম্প্রতি একটি মার্কিন ঔষধ কোম্পানি এ সংক্রান্ত ঔষধ/কিট উদ্ভাবন করেছে। সিএনএন অনলাইনের খবরে প্রকাশ।

অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নিয়ে বাবা-মা তো বটেই, প্রতিবেশীদেরও কৌতুহলের অন্ত থাকেনা। ভূমিষ্ঠ হবার আগেই সবাই জানতে চান- গর্ভের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সফল পদ্ধতি হচ্ছে আল্টাসনোগ্রাম পরীক্ষা। কিন্তু এই পরীক্ষার জন্য গর্ভবতীকে পরীক্ষাগারে যেতে হয় এবং গর্ভ ধারণের দিন থেকে ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরীক্ষাটি ভালো এবং এর ওপর মানুষের আস্থাও অনেক বেশি। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী বলেছেন, গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার জন্য আর ২০ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করে থাকতে হবেনা। ১০ সপ্তাহের মধ্যেই ঘরে বসে ছোট্ট একটি পরীক্ষা করে তা জানা যাবে। পদ্ধতিটাও কঠিন নয়। কাগজের টুকরো জাতীয় একটি বস্তুর মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের নিজেরাই পরীক্ষাটি করে নিতে পারবেন। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের এই কিট উদ্ভাবন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্ডার নামে একটি কোম্পানি। কোম্পানির কর্মকর্তারা বলেছেন, গর্ভ ধারণের ১০ সপ্তাহ পর গর্ভবতী মায়ের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে উদ্ভাবিত কিটটি ডুবাতে হবে। ১০ মিনিটের মধ্যে সেটির রঙ যদি সবুজ হয় তাহলে ধরে নিতে হবে যে গর্ভের সন্তানটি ছেলে আর রঙ যদি কমলা হয়ে যায় তাহলে সন্তানটি মেয়ে।

ইন্টেলিজেন্ডারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রেবেকা গ্রিফিন বলেন, ‘এটি কোনো পরীক্ষাগারের পরীক্ষা নয়। তাই এ পরীক্ষা সবসময় শতভাগ সঠিক হবে তা মনে করা যাবেনা।‘ কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে , তাদের পরীক্ষা ৭৮ থেকে ৮০ শতাংশ সঠিক। অনেকেই মনে করছেন, এই পরীক্ষার ফলে ভ্রূণ হত্যা বেড়ে যাবে। কারণ যেসব মা-বাবা ছেলে সন্তান চান, তারা যখন জানবেন অনাগত সন্তানটি ছেলে নয়, তখন তারা ভ্রূণটি হত্যা করার চেষ্টা করবেন। সাধারণত চীন এবং ভারতে ছেলে সন্তানের আগ্রহ অনেক বেশি। এ কারণে দেশ দুটিতে ভ্রূণ হত্যার মাত্রাও বেশি। ইন্টেলিজেন্ডার বলেছে, সে কারণেই তারা ভারত এবং চীনে তাদের উদ্ভাবিত কিট বিক্রি করবেনা।

------------------------------------------

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

Thursday, August 6, 2009

ভাইকিংদের কথকতা - প্রথম পর্ব

কোথা থেকে ভাইকিংরা এসেছিল ?
ভাইকিংরা এসেছিল তিনটি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ থেকে। সেগুলো হচ্ছে- ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং সুইডেন। ‘ভাইকিং’ শব্দটি এসেছে পুরাতন নরস ভাষা থেকে। ইউরোপের ইতিহাসে ভাইকিংদের খুঁজে পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ থেকে ১১০০ শতাব্দী পর্যন্ত। এই সময়কালের মধ্যে ভাইকিংরা নিজেদের দেশ ছেড়ে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমায় যেমন ব্রিটেন অথবা আয়ারল্যান্ড। কিছু ভাইকিংদের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমানোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল মারামারি এবং লুটতরাজ চালানো। আবার কিছু কিছু ভাইকিং অন্যান্য দেশে পাড়ি জমিয়ে সেখানে কৃষক, বুনন কারিগর অথবা ব্যবসায়ী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করে।

বৃটেনে ভাইকিংদের আগমণ
বৃটেনের দক্ষিণাঞ্চল, যাকে আমরা আধুনিককালে ইংল্যান্ড হিসেবে চিনি; এংলো-স্যাক্সনরা সেখানে প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ৭৮৭ শতাব্দীতে তিনটি ভাইকিংদের জাহাজ ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নোঙ্গর করে। এসব জাহাজকে ‘লংশিপ’ বলা হতো। এরপর ভাইকিংদের সাথে যুদ্ধ হয় এংলো-স্যাক্সনদের। পরবর্তীকালে ভাইকিংদের সাথে এংলো-স্যাক্সনদের অসংখ্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের এটা শুধু সূত্রপাত ছিল। ভাইকিং হামলাকারীদের ইংরেজরা ‘ডেনস’ বলে ডাকত। তারা ভেবেছিল সব ভাইকিংরাই ডেনমার্ক থেকে আগত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভাইকিংরা শুধু ডেনমার্ক থেকেই আসেনি, নরওয়ে এবং সুইডেন থেকেও এসেছিল। নরওয়ে থেকে আগত ভাইকিংদের বলা হতো ‘নরস’; তারা গিয়ে স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমায় এবং সেদেশের উত্তরাংশে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। ভাইকিংরা ওয়েলসেও হামলা চালিয়েছিল কিন্তু তেমন বেশি সংখ্যক ভাইকিংরা সেখানে বসতি স্থাপন করেনি। বৃটেনে প্রচুর উর্বর ভূমিখণ্ড ছিল কৃষিকাজ করার জন্য। এসব ভূমিখণ্ড ভাইকিংদের আগ্রহী করে তোলে বৃটেনে পাকাপাকিভাবে পরিবার নিয়ে থেকে যাবার জন্য। ডেনমার্ক, নরওয়েতে কৃষিকাজের উপযোগি জমি তেমন ছিলনা সেকালে। থেকে যাওয়া ভাইকিংরা জমির উর্বরতা ব্যবহার করে কৃষিকাজ শুরু করে এসব জমিতে। স্কটল্যান্ডের উত্তরাংশে এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণাংশে ভাইকিংদের আধিপত্য দেখা যায়। আয়ারল্যান্ডের অতি গুরুত্বপূর্ণ শহর ‘ডাবলিন’ ভাইকিংরাই প্রতিষ্ঠা করে।

ভাইকিংদের পারিবারিক জীবন
বেশিরভাগ ভাইকিং পুরুষেরা অত্যন্ত কর্মঠ ছিলেন। যেকোন ধরনের কাজে তাদের দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। কিছু ভাইকিংরা অন্যদের চাইতে মাটির পাত্র তৈরির কাজে, নৌকা বানানোর কাজে অথবা চামড়ার কাজে বেশি পারদর্শী ছিল। প্রয়োজনের সময় প্রায় সব ভাইকিং পুরুষদেরকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হতো। ভাইকিং নারীরা রুটি বানানোর কাজে দক্ষ ছিলেন। এছাড়াও তারা ভেড়ার লোম থেকে পোষাক বানানোর কায়দা-কানুন জানতেন। বাসার বাচ্চাদের দেখাশুনা করতেন নারীরাই। ঘরের যাবতীয় রান্নার কাজ এবং পোষাক বানাবার কাজ নারীরাই সম্পাদন করতেন। বেশিরভাব পরিবারে দিনে দুইবেলা খাবার প্রচলন ছিল। নারীরা পুরুষদের মাঝেসাঝে কৃষিকাজেও সাহায্য করে থাকতেন। গরুর দুধ দোয়ানোর কাজ মেয়েদের করতে হতো এবং সেগুলো থেকে পনির বানানোর কাজটাও।

ভাইকিং পরিবারে কোনও ছেলে শিশুর জন্ম হলে তার শেষনামে বাবার নাম জুড়ে দেওয়া হতো। আর মেয়ে শিশুর জন্ম হলে কখনো কখনো হুবহু মায়ের নাম অথবা দাদীর নাম রেখে দেওয়া হতো। ভাইকিং শিশুদের স্কুলে যাবার প্রথা ছিলনা। তারা সাধারণত বাসায় অথবা কর্মক্ষেত্রে তাদের পিতা-মাতাকে সাহায্য করতো। বাসাতেই ভাইকিং শিশুদের ভাইকিংদের ইতিহাস, ধর্ম, আইন এবং ভাইকিংদের নিয়ম-কানুন ইত্যাদি মুখে মুখে শিক্ষা দেওয়া হতো। ভাইকিং শিশুদের ১৫/১৬ বছর হয়ে গেলে তাদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হতো। আর মেয়েদের জন্য তাদের বাবা স্বামী নির্ধারণ করতো।

(চলবে)

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

---------------------------------------------
প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯ ।

Tuesday, July 7, 2009

পৃথিবীজোড়া অদ্ভুত কিছু আইন !

দেশে দেশে বিভিন্ন ধরণের আইনের প্রচলন আছে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু বেশ মজার। ঐসব দেশের অধিবাসীর হয়তো এসব আইনের সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছেন নিজেদেরকে কিন্তু সেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু নিয়ে ভাবলে আমাদের বেশ অবাক হতে হয় বৈকি ! এমন কিছু আইন নিয়েই আজকের লেখা …

১| রাশিয়াতে পিটার দ্য গ্রেটের শাসনকালে কেউ যদি দাঁড়ি রাখতে চাইতো তাকে আলাদাভাবে কর প্রদান করতে হতো দাঁড়ির উপর।
২| যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনও বিয়ারের বিজ্ঞাপনে বিয়ার পানরত অবস্থায় কোনও মানুষকে দেখানো যায়না।
৩| আলাস্কার আইন অনুসারে কোনও উড়োজাহাজ থেকে মুজের(এক ধরনের বড় হরিণ) দিকে তাকানো বেআইনী।
৪| ক্যালিফোর্নিয়ান আইন অনুসারে কোনও মহিলা বাথরোব পড়ে গাড়ি চালাতে পারবেনা।
৫| ইংল্যান্ডের আইন অনুসারে কৃষকেরা তাদের খামারের শূকরদেরকে খেলনা দিতে বাধ্য থাকবে।
৬| ১৯৬৯ সালে মাসাচুসেটসে ক্রিসমাস পালন করা বেআইনি ছিল।
৭| প্রাচীন ইংল্যান্ডে কোনও নারীর সাথে সঙ্গম করতে চাইলে রাজার অনুমতি নেবার দরকার পড়ত।
৮| এথেন্সের পুলিশ কোনও গাড়ির চালকের লাইসেন্স বাতিল করে দেবার ক্ষমতা রাখে যদি ঐ চালক গোসল না করে গাড়ি চালায় অথবা চালকের বেশভূষা না ঠিক থাকে।
৯| বাংলাদেশে ১৫ বছরের শিশুকেও জেলে ভরে দেবার আইন আছে যদি সে পরীক্ষার খাতায় নকল করে।
১০| ফ্লোরিডায় ঘোড়া চুরি করার শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড।
১১| ফ্রান্সে কোনও মৃত ব্যক্তির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে সেক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনও বাঁধা নেই।
১২| মায়ামিতে কোনো পশুর অনুকরণ করা আইনগত ভাবে নিষেধ
১৩| সান সালভেদরে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর শাস্তি হচ্ছে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড।
১৪| জ্যাক ড্যানিয়েল হুইস্কি যে শহরে উৎপাদন করা হয় সেখানে এই হুইস্কি সেবন এবং বেচাকেনা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।
১৫| সাংহাই, চায়নাতে লাল রঙের গাড়ি কেনা এবং মালিকানায় রাখা আইনবিরুদ্ধ।
১৬| মস্কোতে আবহাওয়াবিদরা ভুল তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আছে।
১৭| ইন্দোনেশিয়াতে হস্তমৈথুনের শাস্তি হচ্ছে ধর থেকে মাথা কেটে ফেলে মৃত্যুদণ্ড।
১৮| আইসল্যান্ডে রেস্তোরায় গিয়ে বকশিস দেওয়াটাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়।
১৯| ১৯৬০ সাল পর্যন্ত কোনও লম্বা চুলের অধিকারী পুরুষের ডিজনিল্যান্ডের ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিলনা।
২০| নিউজিল্যান্ডে সর্বপ্রথম মহিলাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

---------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Thursday, July 2, 2009

কম্প্যুটার বিষয়ক কিছু মজার তথ্য !

অন্তর্জালে ঘুরতে ঘুরতে কিছু খুবই মজার তথ্য চোখে পড়ল কম্পিউটার বিষয়ক। প্রত্যেকটি তথ্যই সত্য। সেগুলো নিয়েই আজকের এই লেখা-

১| মাইক্রোসফ্‌ট উইন্ডোজ টিউটোরিয়ালের আরেকটি নাম হল "ক্র্যাশ কোর্স" ।

২| বিল গেটসের বাসার ডিজাইন করা হয়েছিল একটি মেকিনটোশ কম্পিউটার দিয়ে।

৩| ধারণা করা হচ্ছে ২০১২ সাল নাগাদ ১৭ বিলিয়ন ডিভাইস ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে।

৪| অন্তর্জালে প্রতিমাসে এক মিলিয়নেরও বেশি ডোমেইন রেজিস্টার করা হয়ে থাকে।

৫| ই-মেইলের প্রচলন হয়েছিল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবেরও(WWW) আগে।

৬| আশির দশকে কোনও আইবিএম নির্মিত কম্পিউটারকে একশতভাগ কম্পাটিবল ধরা হতোনা যদি না সে কম্পিউটারে মাইক্রোসফ্‌ট ফ্লাইট সিমুলেটর চালানো যেত।

৭| মাই স্পেস ওয়েবসাইটের হিসাবমতে তাদের ১১০ মিলিয়ন নিবন্ধনকৃত ব্যবহারকারী রয়েছে। এটাকে একটি দেশ হিসেবে ধরা গেলে জনসংখ্যার দিক দিয়ে দশম বৃহত্তম রাষ্ট্র হত, মেক্সিকোর পরেই।

৮| গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি আট জোড়া বিবাহিত জুটির মধ্যে এক জোড়ার পরিচয় হয়েছে অন্তর্জালে।

৯| কম্পিউটারের সাথে ব্যবহার করার জন্য মাউস প্রথমে আবিষ্কার করেন ডাগ এনগেলবার্ট নামের একজন ভদ্রলোক ১৯৬৪ সালে এবং সেটি বানানো হয়েছিল কাঠ ব্যবহার করে।

১০| গড় কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা মিনিটে সাতবার চোখের পাতা ফেলেন মাত্র যা গড় স্বাভাবিক মানুষের মিনিটে চোখের পাতা ফেলার সংখ্যার (বিশ বার) চেয়ে অনেক কম।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট।

----------------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Friday, June 5, 2009

নামহীন হাবিজাবি- ৫

(১)
আকাশ জুড়ে মেঘের খেলা
মন বসেনা ঘরের কোনে,
ইচ্ছে করে ভাসাই ভেলা
নদীর জলে গহীন বনে।

(২)
প্রকৃতির নির্মম রূক্ষতাকে
উপেক্ষা করে ভেসে যেতে চাই;
অজানা কোনোও দুর্গমতাকে
আপন করে বন্ধু হতে চাই।

(৩)
ছেলেবেলার মধুর সময়
হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা
স্বপ্নে আসে, স্মৃতি জাগায়
কখনো কাঁদায়, কখনো হাসায়।

--------------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Saturday, April 25, 2009

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অস্ট্রেলিয় নারীদের ভূমিকা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয় নারীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। সেসময়ে নারীদের সাপ্তাহিক বেতন পুরুষদের চেয়ে অনেক কম ছিল; এটাকে নারীকর্মীদের সংখ্যা বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কমে যাবার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসময়ে বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয় নারীরা গৃহকর্ত্রী হিসেবেই কর্মরত ছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে সংগ্রহকৃত পাঁচ লক্ষেরও বেশি তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়। এসব খালি পদ যেখানে নারীকর্মীদের দিয়ে পূরণ করা সম্ভব ছিল, সেটি না করে অস্ট্রেলিয় সরকার নির্বিকার দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর থেকে বাড়ির বাইরে কাজ করতে আগ্রহী নারীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। ১৯১৪ সালে যেখানে মোট জাতীয় কর্মশক্তির মাত্র শতকরা ২৪ ভাগ ছিল নারী সেখানে ১৯১৮ সালে এসে কর্মশক্তিতে নারীদের ভূমিকে বেড়ে দাঁড়ায় শতকরা ৩৭ ভাগ। তবে সংখ্যায় আগের চেয়ে বেশি নারীরা অংশগ্রহণ করলেও তাদের বাঁধা কিছু কাজের গণ্ডি থেকে কিন্তু তারা বেড়িয়ে আসতে পারেননি। তৎকালীন সময়ে মেয়েরা শুধুমাত্র পোষাকশিল্প, পাদুকাশিল্প, খাবার এবং মুদ্রণশিল্পের সাথেই কর্মরত ছিল। কর্মীদের ইউনিয়নগুলো এসময় নারীদের কে আরো বিপুল পরিমাণে এবং অন্যান্য শিল্পে যোগদান করতে বাঁধা প্রদান করছিল। তাদের ভয় ছিল যে আরো অধিক পরিমাণে নারীরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করলে বেতনভাতা কমে যাবে তুলনামূলক হারে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিপুল সংখ্যক নারীরা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সরকারের কাছে। যেসব পদের জন্য তারা আবেদন জানিয়েছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- রাঁধুনি, স্ট্রেচার বহনকারী, গাড়ির চালক, অনুবাদক ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে তৎকালীন অস্ট্রেলিয় সরকার নারীদের এসব আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেয়। তবে নারীদের বিভিন্ন সংগঠন যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এসব সংগঠনের মধ্যে ছিল- অস্ট্রেলিয়ান ওমেন'স ন্যাশনাল লীগ, দ্যা অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস, দ্যা কান্ট্রি ওমেন'স এসোসিয়েশন, দ্যা ভলান্টারি এইড ডিটাচমেন্ট, দ্যা অস্ট্রেলিয়ায়ন ওমেন'স সার্ভিস কর্পোরেশন, এবং দ্যা ওমেন'স পিস আর্মি এবং ওমেন'স ক্রিশ্চিয়ান টেম্পেরেন্স ইউনিয়ন। কিছু কিছু নারীরা এসময়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তরুণদের উৎসাহিত করা, অস্ট্রেলিয়ান আর্মিতে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা, বিদেশী শত্রুদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণের কাজ করতো।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

-------------------------------

প্রথম প্রকাশঃ সচলায়তন, ২০০৯।

Monday, April 20, 2009

নামহীন হাবিজাবি- ৪

আমার ঘরের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ব্যাপারটা মনেহয় ঘরের একমাত্র জানালাটি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সম্ভবত আকাশ। সাথে আরো গাছ-গাছালি, লতাপাতা, পেছনের উঠোনের ফুল ইত্যাদি ইত্যাদি। কয়েক ঘন্টা আগেও বৃষ্টি হচ্ছিল বাইরে। আকাশের অবস্থা দেখে কিছুটা বিরক্তই লাগছিল। এখানে আবার বৃষ্টি হলেই ঠান্ডা পরে তাই বিরক্তিটা একদম মাথায় রক্ত চড়িয়ে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি থেমে আকাশ একদম পরিষ্কার হয়ে গেল। সাদা তুলোর মতন মেঘের দিকে তাকিয়ে বেশ ভাল লাগছিল। সন্ধ্যে হবার ঠিক আগে মনে হচ্ছিল যেন সাদা ক্যানভাসের মধ্যে কেউ হালকা লাল রঙ চড়িয়ে দিয়েছে, বিক্ষিপ্তভাবে এখানে সেখানে।

অলস দিন কাটাচ্ছি আজকে। কত কিছু করার আছে কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারছিনা। গতকাল আমার এক বন্ধুর জন্মদিন ছিল। ওকে শুভেচ্ছা জানানো হয়নি। হয়তোবা কষ্টই পেয়েছে সে; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে জানানো উচিত ছিল। নিজের উপর বিরক্ত লাগছে ব্যাপারটা চিন্তা করলে। গতকাল ওকে শুভেচ্ছা জানালেই পারতাম। এমন নয় যে ভুলেই গিয়েছিলাম। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও মনে ছিল। যদিও সারাদিন বেশ ব্যস্ত ছিলাম কাজে তবুও শত ব্যস্ততার এক ফাঁকে হয়তো শুভেচ্ছা জানাতে পারতাম।মাঝেমধ্যে এমনসব আজব কাজ করে বসি পরে নিজেই বুঝতে পারিনা কেন করেছি। ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই। তবে শুভেচ্ছা জানাই আর নাইবা জানাই ওর জন্য সবসময় শুভকামনা তো অবশ্যই কামনা করি। যা কখনো পরিবর্তন হবার নয়।

আবহাওয়ার কথা বলছিলাম। শীতকালটা আমার কখনোই তেমন ভাল লাগেনা। আমি আবার কিছুটা শীতকাতুরে মানুষ। ঠান্ডা সহ্য করতে পারিনা। সামান্য শীতেও অনেক ঠান্ডা লাগে। বিস্তর জামাকাপড় পরে বাইরে বের হতে হয়। নানান ঝামেলা। শীতকাল ছাড়া বর্ষাকালেও আমার ঘোর আপত্তি। দিনভর বৃষ্টির অত্যাচার দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে যাই। বাকি ঋতুগুলো নিয়ে আমার সমস্যা নাই। বাকি সব ঋতুই আমার পছন্দের।